বিশেষ প্রতিবেদন: এই দেশ
বাদল অধিবেশনের অবসান : ওম বিরলার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
দিল্লিতে সমাপ্ত হল সংসদের মনসুন অধিবেশন। অধিবেশনের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লকসভার স্পিকার ওম বিরলা, বিভিন্ন মন্ত্রী ও সাংসদ একত্রিত হন। তবে অধিবেশন জুড়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ, শ্লোগান, এবং ক্রমাগত অচলাবস্থার কারণে কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাইলাইটস:
• অধিবেশন ‘sine die’ সমাপ্ত, শেষ দিনে তুমুল হইচই ও বিরোধীদের স্লোগান।
• লোকসভায় ১৪টি বিল উপস্থাপন, এর মধ্যে ১২টি পাশ; রাজ্যসভায়ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন গৃহীত।
• মোট কার্যকর সময়: লোকসভা মাত্র ৩৭ ঘণ্টা, রাজ্যসভা ৪১ ঘণ্টা।
• বিরোধী শিবিরের SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুতে বিক্ষোভ, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে অচল অধিবেশন।
• প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্য: “চমৎকার সাংসদ, কিন্তু অনিরাপদ নেতৃত্ব।”
• ওম বিরলার ক্ষোভ: “জাতি সংসদীয় আচরণ লক্ষ্য করছে, এটি কি মর্যাদার উপযুক্ত?”
• লোকসভায় ২২টি ভাষার অনুবাদ পরিষেবা চালু—কাশ্মীরি, কঙ্কনী, সন্থালি অন্তর্ভুক্ত।
প্রত্যয় অনলাইন ডেস্ক:
দিল্লিতে সমাপ্ত হল সংসদের চলতি মনসুন অধিবেশন। অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লকসভার স্পিকার ওম বিরলা, বিভিন্ন মন্ত্রী ও সাংসদরা বৈঠক করেন। অধিবেশনের সার্বিক কার্যকারিতা, বিরোধীদের আচরণ, এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়।
এবারের অধিবেশনে আইন প্রণয়নের চেয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষই প্রাধান্য পেয়েছে। বরাবরের মতো লোকসভায় বিরোধী মতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। লোকসভায় মোট ১৪টি বিল উপস্থাপিত হয়, যার মধ্যে ১২টি পাস করেছে শাসকদল। রাজ্যসভাতেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল গৃহীত হয়েছে। তবে নির্ধারিত কার্যদিবসের তুলনায় কার্যকর সময় অত্যন্ত কম ছিল—লোকসভা মাত্র ৩৭ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভা মাত্র ৪১ ঘণ্টা কাজ করতে পেরেছে।
বিরোধীদের প্রতিবাদে অচল অবস্থা
অধিবেশন জুড়ে বিরোধী শিবির ক্রমাগত SIR ইস্যুতে স্লোগান ও বিক্ষোভ চালায়। অনেক সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাইক ঘেরাও করার মতো ঘটনাও ঘটে। ফলে আইন প্রণয়ন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি।
লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা স্পষ্ট ভাষায় বিরোধী শিবিরের এই আচরণের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের সংসদীয় আচরণ লক্ষ্য করছে। এটা কি তাদের প্রত্যাশিত?” বিরোধীদের বিরুদ্ধে তিনি ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির অভিযোগ আনেন।
অধিবেশন শেষে এনডিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের উদ্দেশে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমাদের কাছে রয়েছে প্রতিভাবান সাংসদরা, কিন্তু নেতৃত্বের অনিরাপত্তা সংসদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।”
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এ অধিবেশনে লোকসভায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত ২২টি সংবিধান স্বীকৃত ভাষায় অনুবাদ পরিষেবা পাওয়া যাবে। নতুনভাবে কাশ্মীরি, কঙ্কনী ও সন্থালি ভাষা যুক্ত হয়েছে। এটি সংসদের ভাষাগত অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মনসুন অধিবেশন শেষ হলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, দেশের সংবিধানের রক্ষাকবচ সংসদ শাসকদলের একাধিপত্য থেকে বিরোধীদের বারবার উপেক্ষিত হতে হবে? যদিও স্পিকার ওম বিরলা ও প্রধানমন্ত্রী মোদি উভয়েই সংসদের মর্যাদা রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আগামী অধিবেশনগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সংসদীয় আচরণ ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে মত রাজনৈতিক মহলের।



COMMENTS